Thursday, 27 February 2020

গরিবের প্রপোজাল


সন্ধ্যা নেমেছে বাঁশবাগানে, চাঁদের মিষ্টি আলো,
চাষীরা সব ফিরছে ঘরে, এবার বাড়ি চলো |

চুপ কর তুই; বসনা একটু, দেখনা ওই জ্যোৎস্না,
আজ তাইতো বাঁধলাম তরী এ ঘাটে, তোর আঁচলটা মেল্না ...

কতদিন তোর কোলে শুয়ে শুনিনি তোর ঘুম পাড়ানী গান,
কতদিন খাইনি তোর হাতের রুটি, আর সেই অবাক জলপান |

চল না  আমার সাথে পালিয়ে, জনবহুল এই কোলাহল ছেড়ে,
গড়বো ছোট্ট কুটির মোরা, থাকবো শাক ভাতটি খেয়ে |

এই দরিদ্রতা আর জাতের লড়াই, খুনোখুনি আর সয়না,
চলনা তোর এই আলির সাথে, আমার প্রিয় ময়না |

ওই শহুরে লোকেরা বলেনা সেই আংটি দিয়ে সিনেমাতে,
করছি প্রপোজ, হবি কি আমার; পালাবি কি এই রাতে ?

নয়তো চল পালাই মোরা এই ভেদাভেদির জাত ছেড়ে,
যেখানে মোদের ভালোবাসা কে নেবেনা কেউ কেড়ে ||

গুমনামী প্রমিস


তোর প্রমিস তা তোলা আছে বইয়ের তাকে,
সময় পেলেই রিক্যাপচুলেট করি অবসরে…
প্রমিস করেছিলি পাশে থাকার হোল লাইফ,
কিছু প্রমিস হয়তো প্রমিস হয়না, অথবা প্রমিস তাই মাইথ |
এখনো মনে পরে যখন বেজে উঠেছিল সেই টেলিফোন,
তোর আসার অপেক্ষায় সাজিয়ে ছিলাম তখন ঘরের কোন |
তুই এলি না, তোর প্রমিস টা রয়ে গেলো ডায়রির পাতায়,
টেলিফোন এ ভাষা কণ্ঠস্বর জানায়, তুই এখন স্মৃতিতে, ইতিহাসের  কথায় |
হয়তো প্রমিসের প্রায়োরিটি টা ছিল তোর কাছে, কিছু ভিন্নতর,
আমাকে দেওয়া প্রমিসটা সেখানে ফিকে, দেশের জন্য তোর শ্রম অবিরত |
আজ ও মনে হয়, তুই সেই কাদা মাখা পায়ে এসে দাঁড়াবি আমার সম্মুখে,
সেতো কাঁদা নয়, সে আমার দেশের মাটি, যার প্রতি ভালোবাসা ছিল তোর চোখে |
সেই জিতলো অবশেষে, বুঝলাম তাকে দেওয়া প্রমিস টাই বেশি দামি,
সহস্র এরূপ মরণপণ প্রমিস তার খাতায়; সবকটাই যদিও গুমনামী ||

Tuesday, 25 February 2020

গোলাপ তোকে আমি অন্যভাবে চিনি..


গোলাপ তোকে আমি অন্যভাবে চিনি,
কখনো তুই বাসর রাতের খাটে, কখনো তোকে শ্রাদ্ধের জন্য কিনি |

গোলাপ তুই সুন্দর বড়, তবু তোর গাছের ডালে কাঁটা,
কখনো তুই কাঁটা তারের বেড়ার জালে, কখনো কারোর চুলের খোঁপায় সাঁটা |

গোলাপ তোকে আমি অন্য ভাবে চিনি,
শহীদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনে, তোকে আমি কিনি |

গোলাপ তোর আদান প্রদানেই কি ভালোবাসার মান?
তোর তো দেখছি বিশাল ভ্যালু, অঢেল তোর সম্মান |

গোলাপ তোর মাধুরী ছড়িয়ে ছিল শেক্সপিয়ারের ও লেখায়,
তোর সৌরভে এসেছিলো বসন্ত, প্রেম ভেসেছিল কালো মেঘের ভেলায় |

গোলাপ তোকে আমি অন্য ভাবে চিনি,
পড়ন্ত বিকেলে Rose ডে যাপনে তোর কাছে আমি ঋনী |

গোলাপ তোকে আমি ছিড়লাম কেন? তুই তো ছিলি গাছেই ভালো..
আসলে তোর স্থান মরার কফিনেও, শুধু rose ডে তেই তুই জমকালো ||

হবি কি আমার ভ্যালেনটাইন?



ছোট্ট দুটি হাত ধরে সেই একসাথে চলতে শেখা,
হিস্ট্রি তা লাগতো বড়োই বোরিং, তোর থেকেই নোট লেখা..

চলতো সেসব আর চলতো দুষটু মিষ্টি আড্ডা গুলো,
দোলের টাইম এ অন্য রকম লাগতো তোর মুখে ওই রং গুলো..

কিংবা হয়তো তুই লাগতিস অন্যরকম, একদম স্পেশাল,
তারপর মেলামেশা আরো বাড়লো, হলাম বড্ডো সোশ্যাল |

ফেইসবুক আর হোয়াটস্যাপ এ তে রাতজাগা আর চ্যাট এ ,
তোর জন্য প্রথম শাড়ি টা কিনেছিলাম সেই মঙ্গলা হাটে |

মেলা দেখা, গল্প গুজব, চড়ে নাকর দোলনা,
দিন গুলো ছিল অসীম সুখের, আজ ও ভোলা যায়না |

তোর সাথে সেই ফুচকা খাওয়া আর পাপড়ি চাট,
মুভি দেখা, প্রচুর শপিং আর পুজো জমজমাট |

আরো একধাপ এগিয়ে এবার করতে চাই তোরে মাইন,
বলনা নীরা, তুই হবি কি আমার ভ্যালেনটাইন ?

উইশ ইউ হ্যাপি ভ্যালেনটাইন


বৃষ্টি ভেজা রাস্তা.. আর গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনের জমা জল,
এখনো মনে করায় গাড়ির কাঁচে তোর আঁকা জলছবি, তোর কোলাহল |

মনে পরে তোর নেইল আর্ট এবং এলোমেলো কেশরাশি,
তোর গলায় রেকর্ডেড মেটাল মিউজিক, আজ ও ভালোবাসি |

তোর সেই আইল্যাশ.. ঘন কালো কাজল মাখা চোখ,
মনে পরে আজ, মনে পরে তোর সহস্র অভিযোগ |

কেন চলে গেলি? হতো তো ঐটুকু কথা কাটাকাটি,
মারতিস আমায়, করতিস না অনেক ঝগড়াঝাটি |

কিন্তু করলি না..বরং করলি নিঃশব্দ অভিমান...
বুঝতেই দিলিনা, কখন গাঁটছড়া টা হারালো তার প্রাণ |

তবু কেন পড়িস আজ ও শাখা পলা, এখনো উল্কি আঁকা হাতে,
কেন এখনো করিস টেক্সট, হোয়াটস্যাপ এ ওতো রাতে ?

ভুলিস নি তো কিছুই সোনা, ভুলেছিস শুধুই সারনেম টা,
এখনো তো পড়িস গলায়, আমার দেওয়া সেই চেন টা |

তবুও রাগে শেষমেশ ছিড়লাম দড়িটা, করলাম পেপার এ সাইন..
তারপর এস-এম-এস টা এলো তোর, উইশ ইউ হ্যাপি ভ্যালেনটাইন ||

Monday, 24 February 2020

টেডি ডে


ও বাবা, আজ টেডি ডে; আমার টেডি চাই,
মা রে আমার সেটা কি রে, কোথায় গেলে পাই ?

সে ছোট্ট, বাবা; মিষ্টি ভারী, ভালুর মতো রূপ,
ওরে বেটি যাসনা তুই ভালুর কাছে, করিয়ে দেবে চুপ |

কি যে বলো বাবা, ওই যে দেখো ওই দূরের বহুতল,
ওদের তো বাচ্চা গুলোর হরেক রঙের টেডি আছে অঢেল |

দিনের শেষে ভাত টি খেয়ে, ওরা ঘুমায় টেডি নিয়ে,
জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানায় টেডি গিফট দিয়ে |

আর আজ তো টেডির দিন গো বাবা, দাওনা একটা টেডি,
ছোট্ট টেডি পাওয়ার জন্য আমি ওই বিড়ি বাধতেও রেডি |

বিড়ি কেন বাঁধবি রে মা, তুই স্কুল এ যা,
পড়াশোনা করেই তো পাবি, তোর টেডি র দেখা ||

Sunday, 23 February 2020

কিস ডে


তোর সাথে সেই প্রথম দেখা শিশির ভেজা ঘাসে,
ময়দানের সেই হই হুল্লোড় আজ ও স্মৃতির কোটায় ভাসে |

দিনটা ছিল  আমার প্রথম ডেট, ছিলাম নারভাস,
তুই তখন ভয় না পাওয়ার দিলি আশ্বাস |

তারপর ঘন্টা খানেক গল্প আর লেবু চায়ের সাথে,
ভুট্টা খাওয়া এবং then ঝালমুড়ি শেষ পাতে |

দূরে তখন ময়দান এ কিছু ছেলেরা খেলছিল ফুটবল,
গাছের ছায়া; স্নিগ্ধ বাতাস, আর ছিল শিউলি ফুলের ঢল |

হটাৎ করে তুই কাছে টেনে করলি আলিঙ্গন,
বলি এভাবেই হাতে হাত রেখে কাটবে সারা জীবন |

অকস্মৎ নামলো বৃষ্টি তখন, ভিজলো আমার মন,
তখন তুই আমার ঠোঁটের কিনারে, চরম তোর প্যাশন |

প্রেমের প্রথম পরশ তখন, তোর চুমুতেই পেয়ে,
সেটিই ছিল, আমার লাইফ এর প্রথম কিস ডে ||