Sunday 14 February 2021

আর হয়তো এটাই শেষের কবিতা....


অনেকদিন হলো, লেখা ঝোকা প্রায় বন্ধ, মিস করি কবিতার ক্লাস,

রুটিন মাফিক চলছে ব্যস্ত কর্ম জীবন, ভুলেছি পদ্য লেখা, আর শব্দের ধারাপাত |


তবুও ভেতরের বাউন্ডুলে কবিটা হাইবেরনেশান থেকে বেরোনোর চেষ্টা এ করছে ছটফট,

অগত্যা ডান হাতটা ধরলো কলম, এক কাপ চায়ের সাথে শুরু হলো আঁকা পুরোনো শব্দছক |


আমার লেখাটা হয়তো অনেকেই বোঝে না, তবুও লিখি যা ভাসে মনের কোনে,

কখনো কলমে শীতের সকাল, পরকীয়া প্রেম, কখনো লিখি আলাপ চারিতা টেলিফোনে |


কখনো কলম ভীষণ সাহসী, বিষয় তখন ফেমিনিজম, হয়ে ওঠে সব প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী,

কখন আবার অলসতা, শব্দগুচ্ছ তখন ঘুমের বাগানে, আর ছন্দ তখন গোলকধাঁধার ফন্দি |


আবার কখনো কলমে চোখের জল, ভিজে যায় মনের সাদা পাতা,তবুও আঁকিবুকি কাটা ,

বিরহের ছবি এঁকে বোঝাতে চায়, এটাই আধুনিক আর হয়তো এটাই শেষের কবিতা ||







Sunday 19 April 2020

আমি এবং আমার কোয়ারান্টাইন


আজ শুন্য পথ, নেই রক্তবন্যা, ধর্ম্য নিয়ে কাটাকুটি খেলা,
আজ কোথায় সেই হিসেবে নিকেশ, আমার তোমার অথোরিটি র রেল্লা?

শহর নয়তো সে যে হয়েছে সুপ্ত শ্মশান, নিশ্চুপ দুপুরবেলা..
নাকি সুপ্ত কবর, হয়তো শুরু কর্মের মরণখেলা...

তবুও হিমেল বাতাস, দূষণমুক্ত শস্য শ্যামলা চর,
নীল আকাশে মেঘের ভেলা, আর আমাদের এই তাসের ঘর,

ঘর গুলি তে গৃহবন্দী মোরা, কোয়ারান্টাইন  এর ভয়ে ঠাসা,
আর প্রকৃতি হয়েছে কৃতজ্ঞ আজ, হারিয়েছে তার ভাষা

সেই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কিনা এক বিদেশ বিভুঁইএর অদৃশ্য জীবাণুকে,
এদিকে ধুঁকছে মোদের বন্দিদশা, ডিপ্রেশনের বাঁকে

সে কিন্তু বেজায় খুশি, নেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর বায়না..
এদিকে লক ডাউন এর ঘোষণার জেরে আর অফিস যাওয়া যায়না|

দূষণমুক্ত, দাঙ্গামুক্ত, যুদ্ধ মুক্ত আজ...
হিংসা কোথায়, আজ প্রকৃতি র অহিংসা র এই সাজ....

শান্ত শ্যামল, হোকনা বাতাস একটু জীবানুময়...
তবু নিঃশাসে নেই দম্ভের বিষ, নেইকো অভিনয়

মুখোশ পরা মানুষ গুলোর নোংরা পলিটিক্স,
পাল্টাচ্ছে আবার সব ক্যালকুলেশন এবং স্ট্যাটিসটিক্স...

আর লক ডাউন তো আর শেষ নয় সেতো আবার নতুন এক সূচনা..
আর জ্ঞান এর কি আর বন্দিদশা, সেতো অন্য এক খোলা জানালা |

তাই থাকনা বন্দি, থাকনা একটু কোয়ারান্টাইন  এ মন...
সেতো নিজের সাথে নিজের নতুন আলাপ, নয়তো আর একলা ঘরের কোন ||

আমি নারী....



আমি নারী, আমি নারী নই রূপে, লাবণ্যে, মাধুরীতে,
নই আমি প্রেমিকা অথবা সত্যবতী স্ত্রী, নেই সৌন্দর্য আমার চাহুনিতে |

তবুও আমি নারী,আমি একাই জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ ও পারি,
নই আমি কঙ্কন পরা, সোনার শিকড়ে মোরা, অকেশনালি পড়ি শাড়ী |

তবুও আমি নারী, ফাঁটা জিন্স আর রক্তবন্যা নিয়েও মন্দিরে যেতে পারি,
আর পারি সমালোচনার জাল ছিড়তে...রোষানলে পুড়েও বেরিয়ে আসতে পারি |

আমার রঙটা কালো, নয়তো ফর্সা সেরকম, তবুও আমি নারী,
আমি প্রত্যাখানের বেদনায় না মুড়ে, হাসতে এবং হাসাতে পারি |

আমার ইতিহাস বহুচর্চিত, পুরাণে রামায়ণ এ এবং মহাভারতে.....
আমি ছিলাম দ্রৌপদী পঞ্চপাণ্ডবের, তবুও সমাজ ব্যস্ত আজ আমার বয়ফ্রেইন্ড দের গুনতে..

আমার বুকের ভিতরেও অকথ্য ভালোবাসা, লিখে ফেলি তাই কখনো গান, কবিতা ও ছড়া,
কফি র কাপেতে দিয়ে চুমুক, উল্কিতেই আঁকি নিজেই নিজের নকশি কাঁথা |

আমার নগ্নতা প্রকাশ প্রায়, কোনার্কের মন্দিরে অথবা খাজুরাহে অঙ্কিত চিত্রে,
তবুও পাড়ার কাকিমা ক্ষুব্ধ আমার অশালীন পোশাকে আর ক্রপ টপে...

আমি আবার কিছুটা হলেও সেবা পরায়ণা, কখনো সিস্টার, কখনো মাদার টেরিজা,
আবার কখনো ইউনিসেফের শিশুদের সাথে করি শৈশবের সুন্দর স্মৃতিচারণা |

আমি কখনো নাস্তিক, কখনো আমার আস্তিকতা  শিবের পুজোয়, স্বামীর সেবায়,
কখনো আমি লাজুক ভারী, আবার কখনো RJ আমি, আমার কণ্ঠস্বর দুনিয়া কাঁপায় |

আমি ব্যথিত হলেও, মেধাবী আমি পথচলায়, তাই হয়তো আমার অস্তিত্ব রহস্যময়,
শিল্পী আমি, সৃষ্টি আমি....নারী বিনা নরের অস্তিত্ব কোথায়?

Friday 28 February 2020

অভিশপ্ত ভ্যালেনটাইন


আকাশে নেমেছে সন্ধ্যা, দূরে কাক পক্ষী যাচ্ছে উড়ে,
নীলা ছুটছে, ধরতে হবে ট্যাক্সি, তার বাড়িটা বহু দূরে |

দিনটা ছিল ভ্যালেনটাইন ডে, তবুও আকাশে কালো মেঘের ফণা,
নীলা ট্যাক্সি পেলো অবশেষে; গাড়ির কাঁচে বৃষ্টির জল, সে হয়েছে আনমনা |

হটাৎই ফোন টা বেজে ওঠে, ফোনের ওপারে সৌভিক...
কাজের শেষে পেয়েছে সময়, জানাতে ভ্যালেনটাইন এর উইশ আন্তরিক |

ধীরে ধীরে বাড়ছে বাতাস, বইছে ঝড়; আর অঝোরে হচ্ছে শিলা বৃষ্টি,
ট্যাক্সির উইন্ড স্ক্রিন ঝাপসা হয়েছে, আর অন্যদিকে চলছে নীলার বার্তালাপ মিষ্টি |

হটাৎ করেই ধেয়ে আসে ট্রাক; বেগতিক হয় ট্যাক্সির স্টিয়ারিং...
ফোনের ওপারে সৌভিক: "নীলা হবে কি কুইন অফ দিস কিং?"

নীলার উত্তরটা শোনার আগেই সৌভিকের ফোন টা যায় কেটে..
ফোনের ওপারে রক্তবন্যা..হৃদস্পন্দন ছুটছে লাস্ট রেট এ |

উদ্বিগ্ন সৌভিক, অগত্যা টেক্সট পাঠায়.. নীলা আর ইউ ফাইন ?
গল্প শেষ সৌভিক, আমি ছিলাম তোমার অভিশপ্ত ভ্যালেনটাইন ||

আমার প্রথম কিস


দিনটা ছিল পূর্ণিমা, তোদের বাড়ির ছাদে; সেটা ছিল আমার প্রথম কিস..
তোর ওই লিপগ্লস লাগানো ঠোঁটে ঠোঁট লাগাতেই, শরীর জুড়ে ছড়ালো প্রেমের বিষ |

তখন তুই আর ছিলি কি সেই বিদ্রোহী মেয়েটা? যাকে দেখেছি কলেজ এ...
হোক কলরব বলে করতে আর্তনাদ, আবার দেখেছি কৃষ্ণকলির সাজে,

নৃত্যনাট্যে, আবার কখনো কলেজ ক্যান্টিন এ করতে পলিটিকাল ডিবেট,
আজ সেই সাহসিনী কিনা নিজের বাড়ির ছাদেই করছে প্রথম ডেট...

দেখ ওই জোনাকিরা দিচ্ছে হানা, হিমে ঢাকা তারারাও ছলছল চোখে,
দেখছে তোর আর আমার নিশীথ যাপন, নিঃসাড়ে, রয়েছে তারাও স্বর্গসুখে |

তোর ওই কাজল পড়া চোখের চাহুনি আর তোর লাল ঠোঁট, সেকি ম্যাগনেট ?
বিষ ছড়াচ্ছে দ্রুতগতিতে শরীরে, অগত্যা বাড়ছে আমার পালস রেট |

না মনে হচ্ছে আমি possessed, তোর আঁখি পল্লবে চেয়ে...
ছুটছে বিদ্যুৎ সারা শরীরে আমার, দ্রুত গতিতে ধমনীতে যাচ্ছে বয়ে |

মনে হচ্ছে সারা পৃথিবীটা paused , আর তুই এক স্বপ্ন নয়তো মরীচিকা..
হটাৎ মা ডাকে; বাবলু ঘুম থেকে ওঠ, পড়তে এসেছে অম্বিকা ||

Thursday 27 February 2020

চকলেট প্রেম


মনে পরে রিনি তোকে দেওয়া আমার প্রথম সেই চকলেট,
তখন ছিলাম কলেজ পড়ুয়া, কলেজ যেতে দুজনের এ হয়েছিল লেট |

তুই কি রাগ করেছিলিস বল..চকলেট এর উপর গিয়েছিলিস চটে,
ভাগ্যিস চকলেট টা ছিল নির্জীব, নয়তো তোর রাগের কথা কলেজে যেত রটে |

তবু তোর ভালোবাসা টা ছিল ওই চকোলেটের চেয়েও মিষ্টি,
তোর হাসিতে আমার লাইফে আসতো বসন্ত, তোর কান্নায় ঝরতো বৃষ্টি |

তবুও হিংসা হতো চকোলেটের প্রতি তোর ওই অন্ধ ভালোবাসায়,
ভাবতাম হতাম যদি চকলেট ফ্যাক্টরি র চার্লি, ভার্চুয়াল বাস্তবতায় |

কিন্তু হয়তো চকলেট ও হিংসা করতো দেখে আমাদের এটার্নাল বন্ড,
সেই ছোট থেকে  ১০ টা বছর, সময়ের সাথে গাঁটছড়া হয়েছে আরো স্ট্রং |

এরপর চকলেট আর তোর আমার ত্রিকোণ প্রেমে,
বাজি মারলাম আমি বিয়েটা সেরে, এলাম তোর আর আমার সিঙ্গেল ফ্রেম এ |

আজ বিয়ের পরে আমাদের প্রথম চকলেট ডে.. রিনি,
তোর জন্য এনেছি তোর প্রিয় ডেয়ারি মিল্ক, হাসিস না..তোকে আমি ভালো করে চিনি ||


আমার টেডি



আজ আমার ঘরে এসেছে ছোট্ট একটি টেডি; সে বড়োই বিচ্ছু,
না সে খেলনা নয়, রক্ত মাংসে গড়া এক ছোট্ট শিশু |

জানিনা তার কি ধর্মজাত, এনেছি তারে অনাথালয় থেকে,
আজ টেডি ডে সেলিব্রেশন এ, খুশি আমি, এই টেডি র সিঙ্গেল মা হতে পেরে |

সহস্র ব্রেক আপ এ ভেঙেছিল যে হৃদয়, আজ হয়েছে সে পূর্ণ,
এখন সে কর্তব্য পরায়ণা, ছোটে না দিকবিদিক হয়ে জ্ঞান শুন্য...

শুধু তোর  জন্যই ছেড়েছি স্মোকিং, ধরেছি কুকিং, তোকে খাওয়াবো বলে,
তোর জন্যই healthy রুটিন, বেপরোয়া স্বভাবটা বিসর্জিত অথৈ জলে..

তোর জন্যই করেছি শপিং, কিনেছি আমি হরেক রকম টেডি...
আজ আমি কলেজ গার্ল বা অফিস পাড়ার মেয়ে না, হয়েছি আমি লেডি...

তোকে বেশ খুঁজে পেতাম অনেক আগে, দিনগুলো হয়তো হতো সঠিক,
তোকে করাতাম আলজেব্রার একুয়েশন, খেলতাম হাইড এন্ড সিক |

আমার লাইফ এ, তোর আগমনে খুঁজে পেলাম এক নতুন পৃথিবী,
তুই বোঝালি সম্পর্ক শুধু নাড়ির হয় না,..থ্যাংক ইউ মাই টেডি ||